ডয়চে ভেলের নতুন শো ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’

ডয়চে ভেলের নতুন শো ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’

ডয়চে ভেলে শুরু করতে যাচ্ছে  ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ নামে ইউটিউবভিত্তিক নতুন লাইভ টকশো ৷ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি শুক্রবার রাত নয়টায় ইউটিউবে এই টকশো দেখা যাবে৷

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিথিরা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে টকশোতে আলোচনা করবেন৷ স্কাইপের মাধ্যমে দু'জন অতিথি যুক্ত থাকবেন৷ জার্মানির বন স্টুডিওতে সঞ্চালক হিসেবে থাকবেন ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন৷

১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই টকশো’র ঘোষণা দেন ডয়চে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ৷ নতুন এই শো’র প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন সঞ্চালক খালেদ মুহিউদ্দীন নিজেই৷ উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের পলিটিক্যাল এটাশে ইনেস দশরাখ বর্গ৷ সাংবাদিক সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ স্বপন৷

দেবারতি গুহ বলেন, ‘‘আমাদের বর্তমানে যে ইউটিউব চ্যানেল আছে সেখানে সাধারণত বিজ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলো দেওয়া হয়৷ কিন্তু এবার আমরা আনছি একটি নতুন ইউটিউব চ্যানেল, যেখানে ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ অনুষ্ঠানটি প্রচার করবো৷ ডয়চে ভেলে সবসময় মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, ন্যায়বিচার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে৷ আমি এশিয়া বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অবস্থান আরো শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি৷

বর্তমান এই সময়ে শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও উগ্রপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে৷ বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে যত্রতত্র৷ খালেদ মুহিউদ্দীন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সাংবাদিক৷ ডয়চে ভেলে তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের আরো কাছে যেতে চায়৷ আমার প্রত্যাশা দর্শকরা এই শো-তে নতুন কিছু পাবেন৷’’

খালেদ মুহিউদ্দীন কী জানতে চান?

এই টকশো মূলত রাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন সমস্যার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে৷ খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, ‘‘আমি নিজেকে সাংবাদিকই মনে করি৷ আমার পক্ষে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা একটু কঠিন৷ নতুন এই শো-তে আমি প্রশ্ন করতে চাই৷ প্রশ্ন করাটা আমার পছন্দের জায়গা৷ এমন অনুষ্ঠান আগে ডয়চে ভেলেতে হয়নি, এটা একদমই নতুন৷ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষ নতুন কিছু পাবেন৷’’

খালেদ মুহিউদ্দীন আরো বলেন, ‘‘জার্মানির বন-এ প্রতিষ্ঠানটির সদর দফতরের স্টুডিও থেকে সরাসরি সঞ্চালনা করবো অনুষ্ঠানটি৷ প্রথমে আমরা ঢাকা থেকে অতিথিদের সম্পৃক্ত করবো এবং পরবর্তীতে পুরো পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে অতিথিদের সম্পৃক্ত করা হবে৷ একটা শো সফল করতে হলে সবার সহযোগিতা দরকার৷ যত বেশি মানুষ এই অনুষ্ঠানটি দেখবেন, মূল্যায়ন করবেন, তত বেশি সফলতা আসবে বলে আমি মনে করি৷’’

ইনেস দরশাখ বর্গ বলেন, ‘‘সংবাদ ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের জন্য ডয়েচে ভেলেকে ধন্যবাদ৷ তারা যে কাজটি করছে, আশা করি, এটা অসাধারণ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে৷ আমি প্রথম পর্বটি দেখার জন্য অপেক্ষা করছি৷’’

বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের অফিস করার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা- একজন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডয়চে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান বলেন, ‘‘আমি একজন বাঙালি, আমি অবশ্যই চাই বাংলাদেশে অফিস করতে৷ কিন্তু সবকিছু তো আর চাইলেই সম্ভব নয়৷

সম্প্রতি আমরা তিনটি অফিস করেছি৷ দিল্লিতে যে অফিস করা হয়েছে, সেখান থেকেই বাংলা ভাষার বিষয়টি দেখা হচ্ছে৷ কিছুদিনের মধ্যে এই অফিসে আরো কিছু মানুষ যুক্ত হবেন৷ সুযোগ হলে অবশ্যই বাংলাদেশে অফিস করার উদ্যোগ নেওয়া হবে৷’’

অনুষ্ঠানের নাম কেন ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’? তিনি কি জানাতে চান না? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, ‘‘আমি দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে জানতে চাই৷ তাদের সেইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবো অতিথিদের কাছ থেকে৷ ফলে অনুষ্ঠানটির নাম ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ হলেও আমি দর্শক-শ্রোতাদের জানাতেও চাই৷ এই শো-র মাধ্যমে দর্শকরা নতুন কিছু জানতে পারবেন৷’’

প্রসঙ্গত, ১৯৫৩ সাল থেকে সম্প্রচার শুরু হয় ডয়চে ভেলের৷ জার্মানির ‘বন’-এ প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর৷ এছাড়া টেলিভিশনের অনুষ্ঠানগুলো জার্মানির বার্লিন শহর থেকে সম্প্রচারিত হয়৷ এ দুই শহর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নিউজ ওয়েবসাইটের জন্য বিভিন্ন সংবাদ তৈরি করা হয়৷ বর্তমানে ডয়চে ভেলে ৩০টি ভাষায় সংবাদ পরিবেশন করছে৷

ডয়চে ভেলে স্যাটেলাইট টেলিভিশনে ইংরেজি, জার্মান, স্প্যানিশ এবং আরবি ভাষায় প্রোগ্রাম সম্প্রচার করা হয়৷ প্রতিষ্ঠানটি তার নিউজ ওয়েবসাইটে নিয়মিত বিভিন্ন আর্টিকেলের আপডেট প্রকাশ করে৷ এছাড়া আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে ডয়চে ভেলে অ্যাকাডেমি৷

#এসকেএস/বিবি/২০-০২-২০২০

ক্যাটেগরী: প্রবাস

ট্যাগ: প্রবাস

প্রবাস ডেস্ক, বিবি বৃহঃ, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২০ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

Comments (Total 0)